রাশিয়ার সাথে দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কৌশলগত মিত্র তৈরিতে জোর দিচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরবে পৌঁছেছেন তিনি। শুত্রবার (২৪ এপ্রিল) জেদ্দায় পৌঁছানোর পর জেলেনস্কি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা আলোচনা শুরু করেছেন। মূলত ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে ইউক্রেনের সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার এই প্রচেষ্টা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এএফপি জানিয়েছে, একজন ঊর্ধ্বতন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন যে জেলেনস্কির এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া। গত মাসে জেলেনস্কির সৌদি সফরের সময় উভয় পক্ষ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছেছিল। ওই চুক্তিতে প্রতিরক্ষা খাতে আগামী এক দশকের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা এবং দুই দেশে যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাশিয়ার ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দেশ হিসেবে স্বীকৃত। কিয়েভ ইতোমধ্যে এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং ড্রোন ইন্টারসেপ্টর পাঠিয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল সংকটের সময় ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেন এখন বিশ্ববাজারে তাদের অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রচার করছে।
কূটনৈতিক দিক থেকে সৌদি আরব বরাবরই ইউক্রেন এবং রাশিয়া—উভয় পক্ষের সাথেই ভারসাম্যপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। এর আগে রিয়াদ ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন বন্ধের উপায় খুঁজতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথেও আলোচনার মধ্যস্থতা করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেলেনস্কির এই ঘনঘন সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সৌদি আরব কেবল জ্বালানি বা কূটনীতি নয়, বরং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ইউক্রেনের একটি শক্তিশালী অংশীদার হতে চলেছে।


